মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সকালে ছাড়তে হবে যে ৫ অভ্যাস

 প্রতিটি মানুষের সকালের নিজস্ব কিছু রুটিন থাকে, তবে বিজ্ঞান বলছে আমাদের পরিচিত অনেক অভ্যাসই আসলে মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। সকালে নয়টা বাজার আগেই যদি মানসিকভাবে ক্লান্তি ভর করে, তবে বুঝতে হবে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি অভ্যাস পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 ঘুম ভাঙার পরপরই স্মার্টফোন হাতে নেওয়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আসক্তি, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ডোপামিন বুফে বলা হয়। ঘুমের গভীর স্তর থেকে জেগে ওঠার সময় মস্তিষ্ক সৃজনশীল চিন্তার ‘আলফা’ তরঙ্গে থাকে। কিন্তু ফোন দেখার সাথে সাথে তা হাই-বেটা স্টেটে চলে যায়, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ায়। দিনের প্রথম এক ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকাকে বিশেষজ্ঞরা ‘৬০ মিনিট বাফার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

অ্যালার্ম বাজার পর আরও কিছুক্ষণ ঘুমানোর জন্য ‘স্নুজ বাটন’ চাপার অভ্যাস মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে। এতে শরীর নতুন একটি ঘুমের চক্র শুরু করতে চায় যা পূর্ণ হয় না, ফলে জেগে ওঠার পর ‘স্লিপ ইনর্শিয়া’ বা প্রচণ্ড ঝিমুনি ভাব তৈরি হয়। অন্যদিকে, ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে শরীরে প্রাকৃতিক অ্যালার্টনেস হরমোন বা কর্টিসল নিঃসৃত হয় বলে খালি পেটে কফি পান করাও ক্ষতিকর। এ সময় কফি খেলে শরীরের স্বাভাবিক মেকানিজম বাধাগ্রস্ত হয় এবং দিনের মাঝামাঝি সময়ে প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভূত হয়। তাই ঘুম থেকে ওঠার অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর কফি পান করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সকালের প্রথম ভাগে জটিল কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান। শুরুতেই জটিল হিসাব বা চাপের কাজ করলে মস্তিষ্কে কগনিটিভ ফ্রিকশন তৈরি হয়, যা মানসিক জীবনীশক্তি দ্রুত শেষ করে দেয়। এর পাশাপাশি সকালের খাবারে মিষ্টিজাতীয় খাবার বা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে আবার কমে যায়। এর ফলে ‘ব্রেন ফগ’ বা মাথায় ঝাপসা ভাব তৈরি হয়। দিনের শুরুতে ডিমের মতো প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্ককে দীর্ঘক্ষণ সচল রাখতে সাহায্য করে। সফলতা মানেই তাড়াহুড়ো নয়, বরং সকালের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্ককে শান্ত রেখে সঠিকভাবে প্রস্তুত করাই হলো দিনটিকে কাজে লাগানোর আসল কৌশল।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ